- সমিতির বৈধ সদস্যপদ অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে সকল সদস্যবৃন্দকে বাধ্যতামূলকভাবে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) প্রদানসহ প্রোফাইল হালনাগাদ করার জন্য অদ্য হইতে আগামী ১৫-১০-২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হইল।
আমাদের ইতিহাস ও সূচনা
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ও তৎসংলগ্ন রামপুর অঞ্চলের ইতিহাস মূলত এ অঞ্চলের ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে এই অঞ্চলের চরাঞ্চল ও উপকূলীয় জমিগুলো অবহেলিত ও জঙ্গলকীর্ণ ছিল। স্থানীয় মেহনতি মানুষ কঠোর পরিশ্রমে এই জমিগুলোকে চাষযোগ্য কৃষি জমি এবং মৎস্য আহরণের উপযোগী করে তোলেন।স্বাধীনতার পর, প্রান্তিক চাষীদের আইনি সুরক্ষা, ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে সমবায় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে “রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেড” (নিবন্ধন নং: ২৩৯৯/৭২)।সমিতির সম্প্রসারণ ও স্বর্ণযুগপ্রতিষ্ঠার পর থেকে সমিতিটি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য (চিংড়ি) খাতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটায়।
১,০০০ এরও অধিক মূল সদস্য এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১০,০০০ ভূমিহীন পরিবারের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয় এই সমিতি। সমিতির আওতাধীন বিশাল চিংড়ি মহাল ও কৃষিজমি সদস্যদের ভাগ্যবদল করতে শুরু করে এবং এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ও সফল সমবায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।বেদখলের কালো অধ্যায় ও আইনি লড়াইসমিতির এই বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্য ও মূল্যবান ভূমির ওপর চোখ পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের। বিভিন্ন সময়ে ভুয়া নথিপত্র তৈরি এবং পেশ পেশীবল ব্যবহার করে সমিতির চিংড়ি ঘের ও কৃষিজমি জবরদখল করার অপচেষ্টা চালানো হয়। এর ফলে সাধারণ সমবায়ীরা তাদের পৈতৃক অধিকার ও আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করে।কিন্তু রামপুর সমবায়ের সদস্যরা অন্যায় ও জবরদখলের কাছে মাথা নত করেননি। নিজেদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষায় সমিতি আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেয়।
দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত এই আইনি সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়ে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভিন্ন সময়ে সমিতির ন্যায্য অধিকার ও ভূমি সমবায়ীদের বুঝিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক নির্দেশ প্রদান করেন।বর্তমান পরিস্থিতি ও সুপ্রিম কোর্টবর্তমানে এই ঐতিহাসিক আইনি লড়াই দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় চলমান রয়েছে। এই মামলার রায়ের ওপরই নির্ভর করছে হাজার হাজার সমবায়ী পরিবারের স্থায়ী ভূমির অধিকার এবং সমিতির ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা।
আইনি জটিলতার কারণে সমিতির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও, সকল সাধারণ সদস্যের মাঝে এখন ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রয়েছে।ভবিষ্যতের প্রত্যয়রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিঃ কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। সুপ্রিম কোর্টের ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমিতির গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরে আসবে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় এটি একটি স্মার্ট ও স্বনির্ভর সমবায় মডেল হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে—এটিই আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।
আমাদের মিশন
আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা: দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (সুপ্রিম কোর্ট) রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমিতির বেদখল হওয়া সমস্ত কৃষিজমি ও চিংড়ি মহালের আইনি মালিকানা পুনরুদ্ধার এবং তা প্রকৃত সদস্যদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া।
সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও পুনর্বাসন : সমিতির ১,০০০+ মূল সদস্য এবং তাঁদের সাথে জড়িত পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে একটি বৈষম্যহীন সমবায় সমাজ গড়ে তোলা।
আধুনিক কৃষি ও মৎস্য চাষের বিকাশ: সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি, সেমি-ইনটেনসিভ (Semi-intensive) চিংড়ি চাষ এবং জলবায়ু-সহনশীল টেকসই কৃষির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা।
স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ: সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সমিতির সদস্য ডাটাবেজ, আর্থিক অডিট এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শতভাগ ডিজিটাল ও সমবায় আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা।
মেগা প্রকল্প ও সবুজ অর্থনীতি: উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ইকো-ট্যুরিজম, লবণ চাষের আধুনিকায়ন এবং বহুমুখী আয়ের উৎস তৈরির মাধ্যমে সমিতির তহবিল ও সদস্যদের লভ্যাংশ বৃদ্ধি করা।
আমাদের ভিসন
ুাি
